face
   

মুসলমানদের সূর্য মানবতাকে উদ্ভাসিত করেছে

মুসলমানদের সূর্য মানবতাকে উদ্ভাসিত করেছে

মুসলমানদের সূর্য মানবতাকে উদ্ভাসিত করেছে

অভিবাদনের পর রাজিব ও রাশেদ লক্ষ্য করল মাইকেল প্রথমে কথা বলতে চাচ্ছে, রাশেদ তাকে কৌতুকের ছলে বললঃ

কি হে মাইকেল, আজ কি তুমি কোন তীক্ষ্ম তীর (সমালোচনা) প্রস্তুত করে এনেছ, তোমার নিক্ষিপ্ত তীর হতে বাঁচার জন্য আমি মনিটরের পর্দা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করব!!

মাইকেলঃ না, না, নিশ্চিন্ত থাক। এবার কোন উদ্বেগ ছাড়াই তুমি তোমার পর্দায় চোখ রাখতে পারবে.... বাস্তবেই। ইতিপূর্বের সংলাপগুলো আমাকে মানবতার উন্নতিতে মুসলমানদের অবদান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী করে তুলেছে। অতঃপর আমি “একহাজার একটি আবিষ্কার ও রহস্যময় লাইব্রেরি”নামক এ ফিল্মটি পেলাম।ফিল্মটি মাত্র ১৩ মিনিটের, কিন্তু এ বিষয়ে খুবই আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত। এতে আধুনিক মানব সভ্যতার উন্নতিতে ইসলামী সভ্যতার অবদানের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। ফিল্মটি বিশটিরও বেশি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেয়েছে।

ফিল্মটি ছোট গল্পের ধরনে তৈরি। এতে দেখা যায়, একজন গ্রন্থাগারিক কতিপয় প্রাপ্তবয়ষ্ক যুবক যুবতীদেরকে তাদের স্কুল কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষা সফরে লাইব্রেরি ভ্রমণের সময় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। এ ভ্রমণে তারা একটি যুগ আবিষ্কার করে যা “অন্ধকার যুগ” নামে খ্যাত। ছবিতে “স্যার বেন কিংসলি” (Sir Ben Kingsley) গ্রন্থাগারিকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। যিনি পরবর্তীতে মুসলিম বিজ্ঞানী “আল জাযারী” Badi’al-Zaman Abū al-’Izz ibn Ismā’īl ibn al-Razāz al-Jazarī (1136–1206) এর ভূমিকায় অভিনয় করেন। তিনি যুবকদেরকে সামনে সে যুগের কতিপয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিত্ব ও অবদান তুলে ধরেন। তাদেরকে সপ্তম শতাব্দী থেকে সপ্তদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইসলামী বিশ্বের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন সম্পর্কে পরিচিত করেন। এ সময়কালকে দীপ্তময় ঐতিহাসিক যুগ বলে গণ্য করা হয়, যার যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয়নি।

রাশেদঃ ছবিটির সারাংশ কি? এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই বা কি?

মাইকেলঃছবিটির লক্ষ্য হলো, ইউরোপের রেনেসাঁ যুগের সৃষ্টির মূল কারন ও চেতনা ছিল সমসাময়িক মুসলিম বিশ্বের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও সাংস্কৃতিক সাফল্যসমূহ, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ধর্মের বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারকদেরসামনে জ্ঞান-বিজ্ঞানের নবদিগন্তের পথ উন্মোচন করে।ছবিটি দেখাতে চেষ্টা করে যে, এ ঐতিহাসিক বাস্তবতা অনেকটাই বিস্মৃত।

রাজিবঃ মাইকেল তুমি যা বলেছ তাতে আমার আরো বিস্তারিত জানার আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দিলে।

মাইকেলঃএখানে আরো বিস্তারিত আছে, যেমনঃ আল-জাযারী Badi’al-Zaman Abū al-’Izz ibn Ismā’īl ibn al-Razāz al-Jazarī (1136–1206)ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী, রসায়নবিদ ও আবিষ্কারকের মধ্যে একজন। তিনি হস্তী ঘড়ি (The elephant clock) আবিষ্কার করেন, যা পরবর্তীতে রূপ কথায় পরিনত হয়। এ ছাড়াও তিনি আরো অনেক যন্ত্র আবিষ্কার করেন যেগুলো আমরা এ ধরার বুকে সর্বত্র আমাদের নিত্য নৈমত্তিক জীবনে ব্যবহার করে থাকি। যেসব মেকানিক্যাল যন্ত্র পুরাতন মডেলে তৈরি হয়েছে তা থেকে বুঝা যায় যে, কিভাবে কৃষিবিপ্লব সৃষ্টিতে বায়ু ও পানি শক্তিকেকাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে।

মুসলিম বিজ্ঞানীদের আরেকজন হলেনঃ স্পেনের চিকিৎসক “আল –যাহরাবি” (Abu al-Qasim Khalaf ibn al-Abbas Al-Zahrawi (936-1013) যিনি হাজার বছর পূর্বে শত শত ঔষধ ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম আবিষ্কার করেন। তার আবিষ্কৃত যন্ত্রগুলো আজও আধুনিক হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জীবন বাঁচাতে ব্যবহৃত হয়। সার্জারি কাজে এগুলোর ব্যবহার এখনও স্বীকৃত।

আরেকজন হলেনঃ হাসান ইবনে হাইসাম (Abū ʿAlī al-Ḥasan ibn al-Ḥasan ibn al-Haytham (965 in Basra – c. 1040 in Cairo) যিনি সর্বপ্রথম চোখ কিভাবে কাজ করে তা ব্যাখ্যা দেন। এ সিনেমাটিতেসূক্ষ্ম ছিদ্রের ক্যামেরারঅনেক উদাহরণ আমরা দেখতে পাই, এতে আমরা জানতে পারি, কিভাবে ইবনে হাইসাম ক্যামেরা ও চলচ্চিত্রের কাজের ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন।

রাজিবঃ মাইকেল তুমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংযোগ করেছ। তবে তুমি একাই শুধু এ বিষয়ে গুরুত্ব ও অনুসন্ধান করোনি, আমিও এ বিষয়ে অনেক অনুসন্ধান করেছি। জার্মানী লেখিকা সিগ্রিড হানকের (Sigrid Hunke ( 1913-1999) উদ্দীপনাময় একটি বই পেয়েছি, যার শিরোনাম হলোঃ “আল্লাহর সূর্য পাশ্চাত্যের উপর আলোকিত” (“Allah’s sun over the Occident”)

মাইকেলঃ তাতে নতুন কি পেয়েছ?

রাজিবঃ আমি অনেক কিছুই লক্ষ্য করেছি, যেগুলো আমি কখনো আশা করিনি। তুমি কি জান ইউরোপীয় ভাষা সমূহে অনেক শব্দ আছে যার মূল হল আরবী।

মাইকেলঃ আসলেই অদ্ভুত! তুমি যা বলছ সে ব্যাপারে তুমি কি সিরিয়াস?!

রাজিবঃ আমি ঠিকই বলছি, তোমার সাথে ঠাট্টা মশকরা করছিনা। যেমনঃ ইংরেজি ভাষা ও অনুরূপ ইউরোপীয় অন্যান্য ভাষায় ব্যবহৃত(Coffee)শব্দটি আরবী “কাহওয়া” (قهوة) শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে। এ আরবী শব্দ থেকেই উৎপত্তি হয়েছে এ পানীয় পান করার স্থানকে বুঝানোর সব শব্দাবলী। ইংরেজি (Rice) শব্দটি আরবী (أرز) শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এমনিভাবে (Sofa) শব্দটি আরবী (صُفَّة) শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে যার অর্থ হল মসজিদের পাশে বসার ছায়াময় স্থান। বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত অনেক শব্দাবলীও পেয়েছি যার উচ্চারন আরবী উচ্চারনের সাথে হুবহু মিল আছে, যেমন আলকোহল (Alcohol) শব্দটি।

বইটি আমাকে অনেক অজানা বাস্তবতা জানিয়েছে। লেখিকা সারাংশে বলেছেনঃ “সমগ্র ইউরোপ আরব ও আরবীয় সভ্যতার কাছে ঋণী। ইউরোপ ও অন্যান্য মহাদেশের ঘাড়ে আরবদের ঋণ অনেক বড়। অনেক আগেই ইউরোপের একথা স্বীকার করা উচিত ছিল। কিন্তু গোঁড়ামি ও বিশ্বাসের ভিন্নতা আমাদের চোখকে অন্ধ করে দিয়েছে এবং তার উপর আবরণ ফেলে রেখেছে”।

রাশেদঃ রাজিব, যেসব বাস্তবতা ও সত্যতা তোমার দৃষ্টি আকর্ষন করেছে ও যা তোমার নিকট অজানা ছিল বলেছিলে, সেগুলো জানতে আমার আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দিলে।

রাজিবঃ যেমন, আমার জানা ছিলনা যে, যিনি সর্বপ্রথম গ্যালিনাসের (Aelius Galenus or Claudius Galenus (AD 129–c. 200/c. 216) ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন ও সমালোচনা করেছেন,অতঃপর রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি সম্বন্ধে সঠিক বর্ননা দিয়েছেন তিনিস্পেনের মাইকেল সারভেটাস (Michael Servetus (29 September? 1509 or 1511 – 27 October 1553) বা ইংল্যান্ডের উইলিয়াম হার্ভ (William Harvey (1 April 1578 – 3 June 1657) নন, বরং ত্রয়োদশ শতাব্দীতে আরবী বংশোদ্ভূত একজন এ তথ্য দিয়েছেন, তিনি হলেনঃ ইবন আল নাফীস (১২১৩-১২৮৮) (Ala-al-din abu Al-Hassan Ali ibn Abi-Hazm al-Qarshi al-Dimashqi)। তিনি মানব ইতিহাস ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ মহা আবিষ্কার করেন যা উইলিয়াম হার্ভের ৪০০ বৎসর পূর্বে ও মাইকেল সারভেটাসের ৩০০ বছর পূর্বে ছিল। আমার জানা ছিলনা যে, একজন আরব মুসলিম বিজ্ঞানী ইবনে হাইছাম (Abū ʿAlī al-Ḥasan ibn al-Ḥasan ibn al-Haytham (965 in Basra – c. 1040 in Cairo) সর্বপ্রথম ইউক্লিড (Euclid of Alexandria) ও টলেমির (Claudius Ptolemy (c. AD 90 – c. AD 168) ভুল শুধরিয়ে দেন। যারা দাবী করেছিলেন যে, যেসব জিনিস দেখতে চাওয়া হয় সেসব জিনিসের দিকে তাকালে চোখ শুধু রশ্মি বিকিরণ করে। অতঃপর ইবনে হাইছাম এসে এ দাবীকে ভুল প্রমাণিত করল। কেননা দেখার জন্য চোখে হতে কোন রশ্মি বিকিরিত হয়না, বরং দৃশ্যমান জিনিসের দিকে তাকালে তার প্রতিচ্ছবির রশ্মি চোখে এসে পড়ে, ফলে মানুষ দেখতে পায়।

আমার জানা ছিল না যে, আরব মুসলিম বিজ্ঞানী আবু রায়হান আল বিরুনি (৯৭৩- ১০৪৮) Abū al-Rayhān Muhammad ibn Ahmad al-Bīrūn

সর্বপ্রথম সূর্যের চারপাশে এবং নিজের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তনের তথ্য আবিষ্কার করেন। নিকোলাউস কোপের্নিকুস (Nicolaus Copernicus (1473 – 1543) বা অন্য কেউ প্রথম এটা আবিষ্কার করেননি, যা বলা হয়ে থাকে। এ বিখ্যাত প্রাচ্যবিশেষজ্ঞ আরো উল্লেখ করেন যে, মুসলিম ডাক্তার আল-রাযী (আবু বকর মোহাম্মাদ ইবন যাকারিয়া আল রাযী বা আল-রাযী (৮৪১ - ৯২৬) কে সব ঐতিহাসিকগণ সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ ডাক্তার হিসেবে গণ্য করেন। কেননা বসন্ত ও হাম সম্পর্কে তার গবেষণা সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম সঠিক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটিকে পর্যবেক্ষণ ও উপচর্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অনন্য ক্ষমতাসম্পন্ন কাজ হিসেবে ধরা হয়। তার গবেষণা তথ্য ইউরোপে এতোই খ্যাতি লাভ করে যে ১৪৮৭ সাল থেকে ১৮৬৬ সালের মধ্যে তার এ বই ইংরেজি ভাষায় চল্লিশ বার মূদ্রিত হয়। লেখিকা আরো উল্লেখ করেন যে, আরবদের যে যুগবর্তমান ইউরোপিয়ানদের কাছে অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত ছিল, সে যুগেই আরবরা মেডিকেল এনেসথ্যাশিয়া জানত, যাকে আধুনিক যুগের আবিষ্কার মনে করা হয় । অন্যদিকে বাস্তবতা ও ইতিহাসের সাক্ষ্য হল এনেসথ্যাশিয়ায় স্পঞ্জের ব্যবহার আরবদের আগে কেউ করেনি। এ বিষয়ে অনেক আলোচনা আছে ,আমাদের এ সংলাপে যার সব কিছু উল্লেখ করা অসম্ভব।

রাশেদঃ যারা ঐতিহাসিক সত্যতাকে অস্বীকার করে বা মানবসভ্যতার জন্য আরব ও মুসলমানরা নতুন কিছু সংযোগ করেনি বলে দাবী করে, তোমার উল্লেখিত বিষয়গুলো তাদের সেসব দাবীকে খন্ডন করে। বিশেষ করে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে। অথচ মানবজাতি পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের পদ্ধতি আরব ও মুসলমানদের হাতেই জেনেছে। আমাকে এ ব্যাপারে পাশ্চাত্য বিজ্ঞানীদের কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করার সুযোগ দাওঃ

ফ্রান্সের প্রাচ্যবিশেষজ্ঞ ক্লাউড কাহেন (Claude Cahen (1909, Paris – 1991) বলেনঃ “মুসলিম বিজ্ঞানীরা – যদিও তাদের চিন্তা গবেষণা দূরে রাখা হয়- গ্রীস বিজ্ঞানীদের তুলনায় অনেক কম বিমূর্তন, তবে তাদের অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষামূলক গবেষণায় প্রতি বিশেষ আকর্ষণ এর অভাব পূরণ করে দেয়। পরবর্তী বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে তাদের এ আকর্ষণ ও ঝোঁক স্পষ্টভাবে বুঝা যায়। আরব বিজ্ঞানীরা যেসব বিষয় গবেষণা করে আমাদের জন্য রেখে গেছেন তা তাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। এ কারনেই এ গবেষণাগুলো তাদের জীবদ্দশায় ছিল এবং তাদের পরেও অবশিষ্ট আছে।

আবু বকর মোহাম্মাদ ইবন যাকারিয়া আল রাযী (৮৪১ - ৯২৬) (যিনি অনেক বড় বিজ্ঞানী ছিলেন) বিজ্ঞানের অব্যাহত অগ্রগতির কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন। মধ্যযুগের অনেক বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদদের কাছে এটা একটা অভূতপূর্ব মূলনীতি। “ ইতালির গবেষক লোরা ভেসিয়া ভাগলিরি (Laura Veccia Vaglieri (1893 - 1989) প্রশ্ন করেনঃ আরবরা কি রজার বেকন (Roger Bacon, O.F.M. (c. 1214–1294) এর অনেক আগেই পরীক্ষামূলক গবেষণার পথ সৃষ্টি করেনি? রসায়ন শাস্ত্রে অগ্রগতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গ্রিক বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা প্রবর্তন, পদার্থবিজ্ঞানের নানা থিউরি আবিষ্কার ইত্যাদি কি আরবদের অবদান নয়?”.....

আমেরিকার দার্শনিক ও ঐতিহাসিক উইলিয়াম জেমস ডুরান্ট (William James Durant (November 5, 1885 – November 7, 1981) বলেনঃ “আরবদের জ্ঞান বিজ্ঞান রসায়ন বিজ্ঞানে পরীক্ষামূলক গবেষণার পদ্ধতিতে অগ্রগতি সাধন করেছে। ইহা আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের মূল উপাদান ও শ্রেষ্ঠ অবদান। রজার বেকন যখন ইউরোপে এ তথ্য ঘোষণা করেন তার পাঁচশত বছর আগেই স্পেনের মুসলমান বিজ্ঞানী আবু মুসা জাবির ইবন হাইয়ান (Abu Mūsā Jābir ibn Hayyān ৭২১ - ৮১৫) এ তথ্য ঘোষণা করে বিশ্ববাসীকে আলোর পথ দেখান। পরবর্তী পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা শুধুমাত্র মুসলমান বিজ্ঞানীদের দেয়া আলোতেই আলোকিত হয়েছিল”।

মানবজাতির জন্য আরব ইসলামী সভ্যতা যেসব আবিষ্কার ও অবদান রেখেছে তার সামান্য মাত্র এখানে পেশ করেছি।

মাইকেলঃএসব আবিষ্কার নিঃসন্দেহে অনেক বড় সফলতা যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু একথাও ভুলে গেলে চলবেনা যে, এসব সভ্যতা পূর্ববর্তী সভ্যতা থেকে উপকৃত হয়েছে, যেমনঃ গ্রীক সভ্যতা।

রাশেদঃ বন্ধু! এটাই জ্ঞান বিজ্ঞান উন্নতির স্বাভাবিক নিয়ম। ইহা সাধারনতঃ মানবজাতির সাফল্যের ধারাবাহিকতা। একেই বলে সভ্যতার চক্র। ফ্রান্সের প্রাচ্যবিদ আল্ডো মিলী এ কথাই জোর দিয়ে বলেছেনঃ “আরবদের এ সব জ্ঞান বিজ্ঞান পূর্ববর্তী সভ্যতা ও আধুনিক সভ্যতার মাঝে একটা ধারাবাহিকতা ও সংযোগ সৃষ্টি করেছে। আমরা যদি আরবদের জ্ঞান- বিজ্ঞানের দিকে লক্ষ্যপাত না করি ও তাদের এসব না বুঝি তবে আদি সভ্যতা ও আধুনিক সভ্যতার সব কিছু ব্যাখ্যায় দুর্বোধ্য একটা শূন্যতা দেখা দিবে।”

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর, “আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নতিঃ ইসলাম, চীন ও পশ্চাত্য” (The Rise of Early Modern Science: Islam, china, and the West) বইয়ের প্রণেতা ডঃ টুবি হাফ মনে করেনঃ যেসব বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে ইসলামী আরব সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ও তা পাশ্চাত্যের লোকদের কাছে মধ্যযুগের ইউরোপীয়ানদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ভাষান্তরের মাধ্যমে পৌঁছেছে, পাশ্চাত্যের চিন্তা-গবেষণার উন্নতিতে অনেক তার অনেক প্রভাব রয়েছে।

তবে আমাকে একটা কথা বলতে দাওঃ ইসলামী আরব সভ্যতার ফলাফল ও সাফল্য অন্যান্য সভ্যতা থেকে অনেকটা আলাদা ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, যা অন্যান্য সভ্যতায় পাওয়া যায়না। এগুলোর উল্লেখযোগ্য হলোঃ

ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞান দ্বীন থেকে কখনো আলাদা হয়নি। বরং দ্বীনই এগুলোর পিছনে মূল কার্যকরী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞান কখনো গোপন ছিলনা। বরং তারা নানা ভাবধারার মানব জাতির মাঝে তা প্রচার প্রসার করতে আগ্রহী ছিল। তাই মুসলমানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউরোপ থেকে আগত সকল ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

নিঃসন্দেহে আমি সে সভ্যতা নিয়ে গর্ববোধ করি।