face
   

নিরাপত্তা/ সুরক্ষা

নিরাপত্তা/ সুরক্ষা

নিরাপত্তা/ সুরক্ষা

রাশেদ ও মাইকেল লন্ডনের উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠল। ট্রেন চলা শুরু করলে মাইকেল রাশেদকে উদ্দেশ্য করে কথা শুরু করলঃ

আমি দেখেছি তুমি তোমার কথায় অনেকবার একটা গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট উল্লেখ করেছ তা হলোঃ “ মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য” আর তুমি একবার বলেছিলেঃ এ উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর ইবাদত করা। এ ব্যাপারটা আমাকে এবং আমার জানামতে অনেককে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। মানুষ বিভিন্ন মূহুর্তে ও অবস্থানে পড়ে নিজে নিজেকে জিজ্ঞেস করেঃ আমি কেন এ দুনিয়াতে এসেছি? কেন আমার এতো দুর্ভোগ? মানব সন্তানদের মাঝে কেন এত বিরোধ? বরং মানব ও বিশ্বের সাথে কেন এতো বিরোধ? এ প্রশ্নগলো কি গুরুত্বপূর্ণ নয়?

রাশেদঃ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি যে, পশ্চিমা মানুষদের চারিত্রিক ও সাংস্কৃতিক গঠন প্রণালী এর জন্য দায়ী। অতএব, এসব মৌলিক উপাদানগুলোর মাঝে দ্বন্দ্ব অত্যাবশ্যকীয় ব্যাপার যেহেতু এ সব পাশ্চাত্যের বস্তুগত সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পাশ্চাত্যে বর্তমান সংস্কৃতি পুরাতন গ্রিক ও রোমান সভ্যতা থেকে নির্যাসিত। তাই মৌলিক ভাবনা বা ধারণার দ্বন্দ্ব সে দুই সভ্যতায় বিরাজমান ছিল বিধায় এ দ্বন্দ্ব এখনো বিদ্যমান। আর তাদের সে দ্বন্দ্ব ছিলঃ একাধিক ঈশ্বরের মাঝে দ্বন্দ্ব, মানুষ ও ঈশ্বরের মাঝে দ্বন্দ্ব, মানুষ ও প্রকৃতির মাঝে দ্বন্দ্ব এবং ভাল ও মন্দের শক্তির মাঝে দ্বন্দ্ব। এছাড়াও আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতার বস্তুবাদী বৈশিষ্টের কারণে দেখা দিয়েছিল আত্মিক দৈন্যতা।

মাইকেলঃ তুমি এমনভাবে কথা বল যেন তোমার কাছে মানুষের পরিবর্তনের জন্য কোন যাদুকরী বিকল্প গুণাবলী আছে।

রাশেদঃ বিষয়টি মুসলমানের ক্ষেত্রে সঠিক, কেননা ঈমান ভাঙ্গন, বিভ্রান্তি ও হয়রানির জন্য নয়। মুসলিম ইসলামের মাধ্যমে জানেঃ সে কোথা থেকে এসেছে? কোথায় যাবে? এ আবাসস্থল দুনিয়ার মূল কি? এ জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কি? তার মর্যাদাই বা কি? এখানে মানবিক কি কি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে?

মাইকেলঃ এখনো আমার প্রশ্ন বাকি আছে, যদিও আমি তোমাকে অনেক প্রশ্ন করেছি, তাহলে এ সবের ব্যাপারে ইসলামের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি কি?

রাশেদঃ মুসলমান অনুভব করে যে, সে এ মহাবিশ্ব ও তার উপাদানের সাথে মিলে আছে, এ সব জিনিস সৎ বান্দার সাথে মহান আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর সামনে নতিস্বীকারে অংশ গ্রহণ করে। এ ইবাদত চাই তারা নিজের ইচ্ছায় করুক, যেমন যে ইবাদতের ধরণ মানব জগতের নিকট স্পষ্ট জানা আছে,আবার চাই সে তার স্বভাবজাত প্রকৃতির কারণে করুক,যার ধরণ আমাদের কাছে জানা নেই। কোরআনে একাধিকবার উল্লেখ আছে যে, "পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তাছবিহ বা গুণগান গায়।” কোরআনে ‘তাসবীহ’ শব্দটি ত্রিশ বারের অধিক এসেছে। এভাবে বিচক্ষণ মুসলিম জানে যে, সে এই গঠিত বিশ্বের একটি অংশ যারা আল্লাহর গুণগান গায়। অতএব সে বিশ্ব ও এর উপাদানের সাথে সঙ্গতিপূর্ন অবস্থানে আছে, তাদের মাঝে কোন বিভাজন ও বিরোধ নেই।

এমনিভাবে সে আরো অনুভব করে প্রকৃতির ভালবাসা ও হৃদ্যতা। সে তাকে বন্ধুভাবে, শত্রু নয়। কোরআন শরিফ বারবার ঘোষণা করেছে যে, তিনি মানুষের জন্য এ পৃথিবীর সব কিছু অধীনস্থ করে দিয়েছেন। এটা এভাবে স্পষ্টভাবে কোরআনে বিশ বারের অধিক বলা হয়েছে। অন্য শব্দ দিয়েও একাধিকবার এ বর্ননা এসেছে।

মাইকেলঃ এর পর কি? এর পরে কি হবে?

রাশেদঃ যখন আমরা লক্ষ্য করব দেখবঃ মানুষ আত্মিক সুখ –শান্তির জন্য কি চায়, কিসে তার শান্তি বাস্তবায়িত হবে ও তার মানবিকতা বাঁচবে? তখন দেখি পাঁচটি শব্দের মাঝে এ সবের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়ঃ الاستسلام (আত্মসমর্পণ), الخضوع (নতিস্বীকার), الطاعة (আনুগত্য), الإخلاص (আন্তরিকতা বা একনিষ্ঠা), الطمأنينة ও (প্রশান্তি)। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মানুষ এমন একটা দাসত্ব বা আনুগত্যের ছায়ায় থাকতে পছন্দ করে যা সমস্ত বিশ্ব জুড়ে থাকবে। আর এ সব শব্দের অর্থ লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে ইহাই ইসলামের অর্থ।

মাইকেলঃ আরো একটু বিস্তারিতভাবে বললে ভাল হত।

রাশেদঃ বিশ্বের সাথে মানুষের সম্পর্কের অন্যতম ফলাফল হলোঃ তার এ নতিস্বীকারের ফলে সে নিজের অন্তরে ও আশেপাশে প্রশান্তি অনুভব করে। একক মৌলিক নীতির উপর জীবনযাপন করে। এতে মৌলিক অনুভূতিগুলোর মাধ্যমে চারিত্রিক অবকাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এতে জীবনে সব ক্ষেত্রে সমতা আসে, মানবিক, আত্মিক, বিবেকের ও শারীরিক সমতা লক্ষ্য করা যায়।

এমনিভাবে মুসলমান জানে, আল্লাহ তায়া’লা আমাদের জন্য পৃথিবীর সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত”। (সুরা বাকারাঃ ২৯)

আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ এবং আয়ত্ত্বাধীন করে দিয়েছেন তোমাদের, যা আছে নভোমন্ডলে ও যা আছে ভূমন্ডলে; তাঁর পক্ষ থেকে”। (সুরা জাসিয়াঃ ১৩)

সে আরো জানে আল্লাহ তায়া’লা এগুলো সৃষ্টি করে আমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন আর আমাদের সাথে এর কোন সম্পর্ক থাকবেনা! এটা হতে পারেনা। অবশ্যই আল্লাহ যা তাদের অধিন্যস্ত করে দিয়েছেন তার মাঝে একটা সম্পর্ক থাকবে, আর যখন সম্পর্ক থাকবে তখন অবশ্যই আল্লাহ এ ব্যাপারে একটি বিধান নাযিল করবেন যাতে এ সব সম্পর্কের বিস্তারিত বিধান থাকবে। কেননা আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা”। (সুরা আল আ’রাফঃ ৫৪)

আল্লাহ তায়া’লা আরো বলেনঃ “মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে?” (সুরা আল কিয়ামাহঃ ৩৬)

অর্থাৎ এ বিশ্ব কোন বিধি-বিধান, আদেশ- নিষেধ ইত্যাদি ছাড়া চলতে পারেনা। তাই মুসলমানকে এগুলো শিক্ষালাভ করতে হবে। সে তার দ্বীনের মাঝে খুঁজে পায় জমিনের উপর মহাবিশ্ব ও শরিয়াতের ন্যায়পরায়নতা ও সমতা।

এ হিসেবে ইসলাম মানব জীবনের জন্য পূর্নাংগ জীবন বিধান দিয়েছে; মুসলিম তার রবের সাথে ইবাদত ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলবে, এমনিভাবে নিজেদের মাঝে লেনদেন যেমনঃ বিবাহ, তালাক, বেচাকেনা, চিরাচরিত অভ্যাস যেমনঃ খাবার ও পানের আদব, ঘুম, পোশাক পরা, গৃহে প্রবেশ ও বাহির হওয়া, এমনকি ব্যক্তিগত পাক পবিত্রতার আদবসমূহ জানবে ও বাস্তবায়ন করবে। এমনিভাবে সে সমাজ, দেশ, অন্যান্য সমাজের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলবে, যাতে জীবনের সব ক্ষেত্র শামিল হয়, যেমনঃ অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিকতা... অতএব জীবনের সব দিকের বিবেচনায় ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান।

এ দ্বীন যেমনিভাবে মুসলমানের অনুভূতির সাথে মিশে আছে তেমনিভাবে তার বিধান নাযিল করেছে আবার তার মাঝে সততা ও ন্যায়পরায়ণতার সমতা এনেছে। মানুষকে দুনিয়া আবাদ করতে আদেশ দিয়েছে, জগত ও নিজ সত্ত্বা হতে আবিষ্কারের জন্য চেষ্টা করতে বলেছে। এ সব কিছু আল্লাহর প্রতি অবনত ও তার ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছে। যখন এসব কিছু আল্লাহ পাকের দেয়া নিয়ম কানুন অনুযায়ী হবে তখন এগুলো আল্লাহর ইবাদতের শামিল হবে।

মাইকেলঃ তুমি যা উল্লেখ করেছ এর ফলে বাড়াবাড়ি ও চরমপন্থার সম্ভাবনা রয়েছে, বা কমপক্ষে বলতে হবে জীবনের উপর দ্বীনের নিয়ন্ত্রণ ও একচ্ছত্র প্রভাব পড়বে।

রাশেদঃ আমাদের জানা উচিত প্রত্যেক জিনিসের কিছু নিয়ম আছে যেগুলো দ্বারা তার উপাদানকে পরিচালনা করা হয়। আর প্রত্যেক উপাদানের অবস্থান ও কার্যকরীতা রয়েছে, এগুলোকে যথাযথভাবে মিলাতে পারলে ভাল ফলাফল দিবে ও উদ্দেশ্য সফল হবে, আর এটাকেই আল্লাহ তায়া’লা মিজান বা পাল্লা বলেছেন। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন তুলাদন্ড। যাতে তোমরা সীমালংঘন না কর তুলাদন্ডে। তোমরা ন্যায্য ওজন কায়েম কর এবং ওজনে কম দিয়ো না”।(সুরা আররাহমানঃ ৭-৯)

অতএব, মিজান বা পাল্লা হলো ন্যায়বিচার। এ পাল্লাই সব কিছুর মাঝে ন্যায়বিচার করে, এ বিশ্ব যেমন একটা নিয়ম, পরিমাপের উপর চলে এবং এর উপর ভিত্তি করে এরসকল নিয়ম বাস্তুবায়িত হয়, এমনিভাবে এই স্রষ্টার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত দ্বীনটি ও মিজান ও ন্যায়বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত।

অতএব, সমতা ও সীমালঙ্ঘন না করা ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা নিজের সাথে বা অন্যের সাথে মানব আচরণে ন্যায়বিচার, আত্মসংযম ও মধ্যপন্থা হিসেবে প্রকাশ করা হয়।

মানুষের নিজের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন ও সমতা বিধান অধিখাংশ সময় সে অনুযায়ী অন্যের ক্ষেত্রে হুকুম দিতে প্রলুব্ধ করে।

এ মধ্যপন্থা অবলম্বন ও সমতা বিধানের কথা কোরআনে সৎ লোকদের দোয়ার মধ্যে বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “হে পরওয়ারদেগার! আমাদিগকে দুনয়াতেও কল্যাণ দান কর এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান কর এবং আমাদিগকে দোযখের আযাব থেকে রক্ষা কর” (সুরা বাকারাঃ ২০১)

এ অর্থে আরো অনেক আয়াত আছে। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না” (সুরা কাসাসঃ ৭৭)

আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী” (সুরা ফুরকানঃ ৬৭)

আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “তুমি একেবারে ব্যয়-কুষ্ঠ হয়োনা এবং একেবারে মুক্ত হস্তও হয়ো না। তাহলে তুমি তিরস্কৃতি, নিঃস্ব হয়ে বসে থাকবে” (সুরা বনী ইসরাঈলঃ ২৯)

মাইকেলঃ আমরা দেখি এক মানুষ অন্য মানুষের রক্ত শোষণ করছে, মানুষের নৈতিকতা খারাপ হয়ে গেছে, এমনকি আল্লাহ পাক তাঁকে যে শক্তি দিয়েছে তা মানুষের সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা ও আনন্দের পরিবর্তে দুর্ভোগ, ধ্বংস, ক্ষতি ইত্যাদির কাজে ব্যবহার করে। এ সমস্যা সমাধানে ইসলাম কি বলে?

রাশেদঃ এ দুনিয়ার অশান্তি ও শাস্তি মানুষ নিজেরা নিজেদের জন্য তৈরি করেছে, এটা শুধুমাত্র এ কারনে যে মানুষ অনর্থক একটি যন্ত্র চালাতে চেষ্টা করতেছে অথচ সে ঐ যন্ত্রের কোন অংশ সম্পর্কে কিছুই জানেনা। এই মানব যন্ত্রটির গোপন রহস্যগুলো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কেউ জানেন না, তিনি এর প্রকৃতি, গতিবিধি জানেন, তিনিই জানেন কিভাবে ইহা সমতা ও সামাঞ্জস্যতা বিধান করে চলবে। অথচ এখন মানুষ এ মূর্খতা ও আহম্মকির কারনে স্রষ্টার দেয়া আইন ছেড়ে দিয়েছে ও নিজেদের মনমত করা আইন মেনে চলছে। হয়তবা যা বিনষ্ট হয়েছে তা আবার নতুন করে সংশোধণ করলে শান্তি ফিরে আসবে। নতুবা এ মহাবিপদ, ধ্বংসযজ্ঞ, দুর্ভোগ, ক্ষতি,আর্তনাদ ও ধ্বংসস্তুপ থেকে উত্তরণের কোন সমাধান নেই।

মাইকেলঃ তাহলে তুমি বলতে চাচ্ছ যে, ইসলামের অনুসরণ ছাড়া কোন মুক্তি নেই, নতুবা মানব জাতি দুঃখ দুর্ভোগের মাঝে বাস করবে?!

রাশেদঃ ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে, দুনিয়া ও আখেরাতে ব্যাক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে এটা স্পষ্ট। মানুষের দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতার অনুভুতি জাগ্রত না হলে অবাধ্যতা ও খারাপ কাজ থেকে তাঁকে বিরত রাখতে পারবেনা। যদি মানুষ বিশ্বাস করে যে, সে যা খুশি তা করতে পারবে, কেউ তাঁকে জিজ্ঞাসা করবেনা, এমন কোন শক্তি নাই যা তার কাজের শাস্তি দিবে তখন তার অবাধ্যতা ও খারাপ কাজের সীমা ছাড়িয়ে যায়। এটা ব্যক্তির জন্য যেমন ঠিক তেমনি পরিবার, জাতি, সমাজ ও পৃথিবীর সব প্রাণীর ক্ষেত্রেও ঠিক। কেননা আমরা সকলে পরীক্ষার সম্মুখীন, আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা ও মালিক এক আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করার পরীক্ষা।

আমি, তুমি ও অন্যান্য সকলে যাদেরকে আল্লাহ পৃথিবীতে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন, সকলেই এ পরীক্ষার মুখামুখি, সকলেই আমাদের বিবেক, বদান্যতা, অনুভূতির কাছে করণীয় ব্যাপারে পরীক্ষার সম্মুখীন। আমাদের সকলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবেঃ সে কি তার প্রকৃত মালিকের সাথে সত্যিকারে ওয়াদাপূরণকারী, নাকি খিয়ানতকারী?

আমি নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আনুগত্য এবং ওয়াদাপূরনের পথে চলব, যারা আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে সরে গেছে তাদের আনুগত্য থেকে আমিও দূরে সরে যাব... এটাই আমার জন্য সুরক্ষা।

মাইকেলঃ রেল শেষ ষ্টেশনে এসে গেছে... চল নেমে পড়ি।