face
   

ঈমানের প্রয়োজনীয়তা

ঈমানের প্রয়োজনীয়তা

ঈমানের প্রয়োজনীয়তা

বন্ধুরা পূর্বনির্ধারিত সময় মত যুব-আবাসে এসে মিলিত হল। খাবারের মেন্যু দেখে মাইকেল ও রাশেদ তাদের অর্ডার জানাল, রাজিব তখন আরেকটু চিন্তা করছিল, সে বললঃ

অনেক হোটেলে পূর্নাংগ নিরামিষ খাবারের ব্যাপারে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়না। যাই হোক আমার পছন্দের খাবারের অর্ডার দিচ্ছি।

মাইকেলঃ তাহলে তুমি নিরামিষ ভূজি?

রাজিবঃ হ্যাঁ, ভারতের প্রায় ৪০% লোক নিরামিষ ভূজি।

রাশেদঃ কিন্তু এটা কি ধর্মীয় কারনে নাকি স্বাস্থ্যগত কারনে?

রাজিবঃ প্রকৃতপক্ষেযে হিন্দু ধর্মে আমি দীক্ষিত, তাতে গরুর মাংস ভক্ষণ সম্পুর্ণরুপে নিষেধ। ভারতে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের নিকট নিরামিষ খাবার খুবই প্রচলিত। যদিও এ নিয়মের নির্মমতার কারণে এদের সংখ্যা এখন দিন দিন কমে যাচ্ছে, তবে আমি স্বাস্থ্যগত এবংপরিবেশগত কারনে নিরামিষ খাবার পছন্দ করি।

রাশেদঃ (ওয়েটারকে ডেকে)ঃ এগুলো আমাদের অর্ডার, প্লিজ এগুলো দাও।

মাইকেলঃ কিন্তু রাজিব, তুমি তোমার ধর্ম ত্যাগ করে কোন ধর্ম গ্রহন করেছ?

রাজিবঃ কোন ধর্মই না। আমি জার্মানীতে পড়াশুনা কালীন সময় এ ব্যাপারে প্রচুর অধ্যয়ন করি, হিন্দু ধর্মের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে ভাবতে থাকি, যা অনেক সমালোচনা ও সন্দেহের সৃষ্টি করে। আর আমি খৃষ্টান ধর্মেও বিশ্বাসী নই। তাই অনেকটা নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী।

মাইকেলঃ এ সন্দেহের ব্যাপারে আমিও তোমার কাছাকাছি। তবে আমি মনে করি যে, মানুষের কখনো কখনো কোন ইলাহ বা রবের সাথে সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। তবে এ সম্পর্ক যেন কখনো মানুষের উপর স্বেচ্ছাচারী বা নিয়ন্ত্রণকারী না হয়।

রাশেদঃ আমি মনে করি তোমার এ কথাটাকে বিশ্লেষণ করা উচিত।

মাইকেলঃ কোন কথা?

রাশেদঃ নাস্তিকতায় চিন্তাভাবনা, মানব জীবনে দ্বীন ও প্রভুর অবস্থান ও প্রয়োজনীয়তা।

রাজিবঃ আমি মনে করি বিজ্ঞানে মানুষের উন্নতির ফলে অনেক রহস্য প্রকাশিত হয়ে গেছে , ফলে অদৃশ্যের ব্যাখ্যার আর কোন দরকার নেই। আমি মনে করি পৃথিবী একটা বোজ্ঞানিক নিয়মের উপর পরিচালিত। এভাবে বলা যায় যে, মহাবিশ্ব স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক অবশ্যম্ভাবী কঠোর নিয়মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ কারণে এখানে যা কিছুই হচ্ছে তা সেই অবশ্যম্ভাবী নির্ধারিত ফলাফলের কারনেই হচ্ছে। আর যখন এ মহাবিশ্ব এ সব স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক অবশ্যম্ভাবী কঠোর নিয়মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তখন স্রষ্টার চিন্তা ভাবনার দরকার নেই।

রাশেদঃ আমাদের চারপাশে যা আছে তা বুঝতে বিজ্ঞান একটি চমৎকার উপকরণ, কিন্তু ব্যাপারটা এভাবে নয়। এভাবে আমরা মানবেতিহাসের এতবড় একটি বিষয় নিয়ে আমাদের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী শুধু এক দিক থেকে আলোচনা করতে পারিনা, এ বিষয়ে আলোচনা করতে হলে অনেকগুলো দিক বিশ্লেষন করতে হবে; সেগুলো হলোঃ

আমাদের চারপাশের সব ঘটনার ব্যাখ্যা কি বিজ্ঞান দিতে পারে? অবশ্যই না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, যখন আমরা জ্যোতির্বিজ্ঞান পেলাম তখন দেখলাম যে, জ্যোতির্বিজ্ঞান বলছে, এ বিশ্বে যা কিছু আছে তার মাত্র ৫% আবিষ্কার করতে পেরেছি আমরা, বাকিগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন উপাদান, সেগুলো সম্পর্কে কিছুই জানিনা। এটা বলা হচ্ছে তাদের বর্তমান ক্ষমতা ও দক্ষতা অনুযায়ী, তবে ভবিষ্যতে না জানার এ পরিমান বৃদ্ধির অনেক বেশী সম্ভাবনা রয়েছে।

এই যদি হয় আমাদের এ পরিদৃষ্ট মহাবিশ্বের অবস্থা, তবে অদৃশ্য বিশ্বের কি অবস্থা কি হতে পারে?!

এ কারনেই আমাদের জিজ্ঞাসা করা উচিতঃ বিজ্ঞানের কি কোন সীমারেখা আছে যেখানে সে স্থির হবে? আমাদের জানা উচিত যে, বিজ্ঞানের সক্ষমতা যতই হোক না কেন সব কিছুর ব্যাখ্যায় তা সীমাবদ্ধ। অদৃশ্য জগত বিজ্ঞানের উপলব্র নাগালে নেই, কেননা বিজ্ঞান কোন কোন দৈহিক ঘটনার ব্যাখ্যা দিতেই অক্ষম । তাহলে অদৃশ্য জগতের ব্যাখ্যা কিভাবে দিবে যাকে কোন ল্যাবরেটরিতে বা অন্য কোন প্রত্যক্ষ উপায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যায়না?!

আরো যোগ করলে বলা যায় যে, কোন বস্তুর গঠনের পদ্ধতি জানার কারণে তার সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা বা তার সৃষ্টিকে খাটো করে দেখা উচিত নয়।যেমনঃ একজন মানুষ যদি প্রথমে টেলিভিশন দেখে আশ্চর্য হয়, অতঃপর সে এটার তৈরীপ্রনালী সম্পর্কে জানে এর অর্থ এ নয় যে সে এটার আবিষ্কারককে অস্বীকার করবে বা তার কাজটাকে খাট করে দেখবে। এমনিভাবে যখন আমরা জীববিজ্ঞানের মাধ্যমে জীবকোষের রহস্য উদ্ধার করতে এবং ডিএনএ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি আর এর আশ্চর্য প্রকাশ পেয়েছে তখন এর মানে কি এই যে এতে কোন বিস্ময়কর কিছু নেই? বা এর পিছনে কোন স্রষ্টা নেই? বরং উল্টো, যখন মানুষ এ বিস্ময়কর সৃষ্টির সামনে অনুরুপ সৃষ্টি করতে এবং এতো ক্ষুদ্র বস্তুর কার্যকারীতার ব্যখ্যা দিতে অপারগ হয়ে পড়ে তখন সেটা তাকে এ বিশ্বাসের দিকেই ধাবিত করে যে, এ সৃষ্টির পিছনে একজন স্রষ্টা রয়েছেন।

আরেকটি উদাহরণ নাওঃ আমেরিকার জীব বিজ্ঞানের অধ্যাপক সীসিল পেস হামান বলেছেনঃ

“খাদ্য মানব দেহের অংশে পরিণত হওয়ার আশ্চর্যজনক কার্যপ্রণালীইতিপূর্বে আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করা হত। বর্তমানে ইহা চাক্ষুষ দর্শনের দ্বারা বলা হয় যে রাসায়নিক কার্যক্রমের মাধ্যমে হয়ে থাকে, তাই বলে কি তা আল্লাহর অস্তিত্বকে বাতিল করে দেয়? তাহলে কোন শক্তি রাসায়নিক উপাদানকে নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের জন্য উপকারী কার্যকরী বস্তুতে পরিবর্তন করে? মানব শরীরে খাদ্য প্রবেশ করলে ইহা স্বয়ং ক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে। এটা অসম্ভব যে, এই আশ্চর্যজনক পদ্ধতি এমনি এমনিই কাজ করে, এটা দেখার পর নিশ্চিতভাবে আমরা বিশ্বাস করতে পারি যে, আল্লাহ তায়া’লা যে মহান নিয়মের মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টি করেছেন সে পদ্ধতিতে এ সব করেন”।

মাইকেলঃ কিন্তু ডারউইনের বিবর্তনের থিওরী এ অর্থেই, তথা বিজ্ঞানের অত্যাবশ্যকীয়তা ও স্রষ্টার সৃষ্টিকে বাতিল করার অর্থে, বলেছে যে, সৃষ্ট সব জীব একটা স্বয়ংক্রিয় প্রাকৃতিক নিয়মে জন্মলাভ করেছে ও বেড়ে উঠেছে, যেখানে কোন সৃষ্টি নেই।

রাশেদঃ এই বিবর্তনের থিওরী ও অন্যান্য থিওরির উপর একটা প্রশ্ন চলে আসে, সেটা হলো, সব ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কি সার্বজনীন ও স্থির? অনেক জ্ঞানীরাই এ কথা ভুলে যান যে, বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য হলো সামষ্টিক ও বৈল্পবিক, এ দু’টো জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কেননা এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তথ্য, জ্ঞান ওআবিষ্কারসমূহ একত্রিত হয়ে পূর্বের জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টি সৃষ্টি করে এবং জগতের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দেয়।

অতএব ডারউইনের বিবর্তনের থিওরী – সর্বোপরী ধরে নিলে বলা যায় যে, এটা একটা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা বাস্তব বিজ্ঞান সম্মত পর্যায়ে পৌছেনি, এমনকি একটা দৃষ্টিভঙ্গি বা থিওরীর পর্যায়েও পৌছেনি, বরং এটা উন্নতির পর্যায়ে একটা ধারনা, এ সব ধারনা আধুনিক ভ্রূণতত্ত্ব আবিষ্কারের সাথে সাংঘর্ষিক... তাছাড়া যেসব খননকাজে ক্যামব্রিয় যুগের অনেক বড় বড় পশু প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে , এসব যুগকে ক্যামব্রিয় বিস্ফোরণ বলা হয়, তার সাথেও সাংঘর্ষিক। এমনিভাবে প্রানীর অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয় যা একটি অন্যটি হতে পরিবর্তন হয়ে সৃষ্টি নয়, যেমনিভাবে বিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বলা হয়।

রাজিবঃ তাহলে এই ধরা কোন স্রষ্টা ছাড়া এমনি এমনিতে বিকশিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই?

রাশেদঃ তাহলে শোন আমি তোমাদেরকে গণিত এবং সমাপতন আইনের মৌলিক রীতি অনুযায়ী কাকতালীয়ভাবে সৃষ্টি হওয়ার ব্যাখ্যাটা আরো স্পষ্ট করে বলি, যাতে বুঝতে পারো যে, কাকতালীয়ভাবে কোন কিছু সৃষ্টি হওয়া সম্ভাবনা কতটুকুঃ

ধরে নেই আমাদের কাছে বড় একটি বক্সে হাজার শব্দমালা ভর্তি আছে, তাহলে হয়তো সেখানে (أم) শব্দটির জন্য মীম অক্ষরের পাশে আলিফ অক্ষরটি থাকার অনেক সম্ভাবনা থাকতে পারে কিন্তু দীর্ঘ একটি কবিতা বা গল্প বানানোর জন্য এসব অক্ষর সয়ংক্রিয়ভাবে সুবিন্যাস্ত থাকার সম্ভাবনা খুবই কম, অসম্ভব যদি না ও হয়।

বিজ্ঞানীরা পরমাণু জমা করে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, এ থেকে অ্যামিনো এসিড তৈরি হয়, (অ্যামিনো এসিড) এমন উপাদান যা থেকে প্রোটিন ও মাংস তৈরি হয়। তারা দেখেছেন এগুলো হতে কোটি কোটি বছরের দরকার, এবং এমন উপাদান প্রয়োজন যার জন্য সুবিশাল বিশ্বেও স্থান সঙ্কুলান হবেনা। এটা শুধুমাত্র ক্ষুদ্র্র্র্র একটি অংশের ক্ষেত্রে, তাহলে সকল প্রাণী জগত, গাছপালা, পশুপাখি ইত্যাদির তৈরি ও গঠনের ব্যাপারে তোমার ধারণা কি? জীবন ও বিশ্ব তৈরির ব্যাপারে তোমার কি মনে হয়? এটা বিবেকের কাছে অসম্ভব ব্যাপার যে, অন্ধ কাকতালীয়ভাবে এমনি এমনিভাবেই এগুলো সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞানের সব শাখা প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ব পরিচালনায় অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম আশ্চর্য নিয়ম কানুন আছে, এ সব কানুনের কিছু স্থির, আবার কিছু পরিবর্তনশীল। বিজ্ঞানীরা এগুলো আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ফলে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহনের মত অনেক ঘটনা আমরা শত শত বছর আগে আন্দাজ করতে পারি।

তাহলে কে এ সব নিয়ম কানুন সৃষ্টি করেছেন? প্রত্যেক অণু পরমাণুতে এ সব নিয়ম বাস্তবায়িত করেছেন, বরং অণু পরমাণু ছাড়াও আরো সূক্ষ্ম জিনিসের প্রথম সৃষ্টির সময় এ সব নিয়ম কানুন বাস্তবায়ন করেছেন। কে এসব আইন কানুন প্রণয়ন করেছেন ও সব কিছুর মাঝে সমতা ও সামাঞ্জস্যতা বিধান করেছেন? কে তিনি যিনি ডিজাইন করেছেন, অতঃপর সুন্দর করে উত্তম পরিমাপে সৃষ্টি করেছেন? এসবকিছু কি স্রষ্টা ব্যতিতই সৃষ্টি হয়েছে? নাকি মানুষ নিজেই এগুলো সৃষ্টি করেছে? এভাবেই মুসলমানদের কিতাব আল কোরআন জিজ্ঞেস করেছেঃ আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ “তারা কি আপনা-আপনিই সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা?” (সুরা আত্ব তুরঃ ৩৫)

এ বিশ্ব যে আইন কানুনে চলে এবং দৃষ্টি মেলে আমরা জগতে যে অপূর্ব সৃজনশীলতা দেখি তা প্রমাণ করে যে, এমন একজন বিজ্ঞ, মহাজ্ঞানী, সুপরিপক্ক সৃষ্টি কর্তা আছেন যিনি এ সব এত সুন্দর করে সৃজন করেছেন।

মাইকেলঃ এখানে একটা প্রশ্ন জাগে – যদিও আমি সেটাকে সমর্থক করিনা- ঃ দ্বীন ও আল্লাহর উপর বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা কি? অনেক লোকইতো আল্লাহর উপর বিশ্বাস না করে জীবন যাপন করছে।

রাশেদঃ নৃবিজ্ঞান (নৃতত্ত্ব) ও ধর্মবিজ্ঞানের গবেষনায় দেখা যাচ্ছে যে, ধর্মের প্রয়োজনীয়া সব যুগে, সব সমাজে সকল মানুষের কাছেই ছিল। মানুষ আদিকাল থেকেই ইবাদত করার জন্য একজন ইলাহকে খোঁজ করত, তাঁর কাছে কিছু চাইত, বিশ্বাস করত যে, তিনি খুব শক্তিশালী, এ বিশ্বের নিয়ন্ত্রক, সব কিছুর স্রষ্টা, তিনি সদাজীবিত, মৃত্যু বরণ করেন না।

মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি সাক্ষ্য দেয় যে, যখনই মানুষ সমস্যা, বিপদ, হুমকি , ঝুঁকি ও হতাশায় পতিত হয় তখনই মানুষের এমন জৈবিক প্রয়োজন দেখা দেয় যা তাকে আল্লাহর প্রতি ঈমানের দিকে ধাবিত করে।

এমনিভাবে, মানুষ ঈমান ব্যতিত অনেক সময় এমন পশুতে পরিণত হয় যাকে তার প্রবৃত্তি পরিচালনা করে, বিবেক তাকে ফিরিয়ে রাখতে পারেনা।

রাজিবঃ রাশেদ আমাকে বলতে সুযোগ দাও, আমি এমন এক দেশে বসবাস করি যেখানে অনেক ধরণের ধর্ম রয়েছে, এর পর আমি ইউরোপে গেলাম, সেখানে আবার অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানলাম, এখন দেখলাম প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরা আল্লাহ সম্পর্কে তাদের ভিন্ন ভিন্ন ধারনা, তাহলে আমরা কিভাবে এর ব্যাখ্যা দিব? কিভাবে জানব যে সত্য প্রভুর গুণাবলী কি হওয়া উচিত? এছাড়াও কিভাবে বুঝব যে কোন ধর্ম সত্য আর কোন ধর্ম অসত্য?

রাশেদঃ ওয়েটার খাবার নিয়ে এসেছে, আমাদের এ আলোচনা সামনের বৈঠকে করব, কিন্তু প্রথমেই আস আমরা পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের বিখ্যাত এ উক্তিটিতে একমত হই,তাহলোঃ ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু, আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ”।