face
   

রাসূলগণের ইতিহাসঃ ঈসা আলাইহিস সালাম

রাসূলগণের ইতিহাসঃ ঈসা আলাইহিস সালাম

রাসূলগণের ইতিহাসঃ ঈসা আলাইহিস সালাম

মারইয়াম (আঃ)

নবী গন শ্রেষ্ঠ মানব
নবী রাসুলদের ব্যপারে কিছু বিকৃতি হল, তারা নেশা করেছেন, ব্যভিচার করেছেন, কিংবা নর হত্যার হুকুম দিয়েছেন। এসব এমন বিকৃতি যা সাধারণ নীতিবান মানুষের ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত। আর মহা মানবদের বেলায় তো বলাই বাহুল্য। তারা হলেন আল্লাহর নবী। দাউদ আঃ এর ব্যাপারে তওরাতে বিবৃত করা হয়, (স্যামুয়েল (2) 11 / 2-26), এবং নূনের পুত্র ইউশার আঃ ব্যপারে (যিহোশূয় 6/24) ), এবং মুসা আঃ ব্যপারে (18 টি ইস্যু 31/14) ইত্যাদি যা আল্লাহর রাসুলদের জন্য উপযুক্ত হয়না. “

হযরত মারইয়ামের পিতা ইমরান বনী ইসরাইলের একজন বুজুর্গ লোক ছিলেন। তিনি দাউদ (আঃ) এর পবিত্র বংশধরের একজন ছিলেন। মারিয়ামের মাতার গর্ভধারণ হচ্ছিলনা। কিন্তু তিনি একটি সন্তানের জন্য খুবই ব্যাকুল ছিলেন। তখন তিনি আল্লাহর কাছে মানত করেন যে, আল্লাহ পাক যদি তাকে একটি সন্তান দান করেন তবে তাকে বাইতুল মুকাদ্দাসের খেদমতে দান করবেন। এমরানের স্ত্রী যখন বললো-হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। আমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাত। অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে। (আলে ইমরানঃ ৩৫-৩৬)

বাইবেলে যীশু দাবি করেন যে প্রভু এক
তার কাছে একজন লেখক এল, ইতিপূর্বে তিনি তাদেরকে বাক বিনিময় করতে শুনেছেন, দেখতে পেয়েছেন যে, সে সুন্দর ভাবে তাদের জবাব দেয়েছে। আসার পর তাকে জিজ্ঞাস করলেন, কোন উপদেশ সবচেয়ে উত্তম? যীশু তাকে উত্তরে বললেন, হে ইস্রাইল শোন, সর্বোত্তম উপদেশ হল, আমাদের উপাস্য রব একক রব। তাই পূর্ণ হৃদয়ে, পূর্ণ স্বত্বায়, পূর্ণ চিন্তায় পূর্ণ শক্তিতে তাকে ভালবাস, এটাই প্রথম উপদেশ, (মার্ক 12/28-35)

আল্লাহ তায়া’লা তার মায়ের মানত কবুল করেন।অতঃ পর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। (আলে ইমরানঃ ৩৭)

তথা সুন্দর, উজ্জ্বল চেহারা ও সৌভাগ্যবান নেককারদের পথ প্রদান করলেন। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। (আলে ইমরানঃ ৩৭)

আল্লাহ তায়া’লা তাকে মহিমান্বিত করেন, তিনি একজন নবীর তত্ত্বাবধানে বড় হন। কেউ কেউ বলেনঃ যাকারিয়া (আঃ) তার খালু বা বোনজামাই ছিলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন “মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?” তিনি বলতেন, “এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন। (আলে ইমরানঃ ৩৭)

আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মান ও রক্ষনাবেক্ষণ পান। আল্লাহ তায়া’লা তাকে সম্মানিত করেন, তাকে মহানদের মধ্যে নির্বাচিত করেন, তাকে পুতঃপবিত্র করেন, তার সাথে কথা বলেন, তাকে তার ইবাদত করতে নির্দেশ দেনঃ আর যখন ফেরেশতা বলল হে মারইয়াম!, আল্লাহ তোমাকে পছন্দ করেছেন এবং তোমাকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন করে দিয়েছেন। আর তোমাকে বিশ্ব নারী সমাজের উর্ধ্বে মনোনীত করেছেন। হে মারইয়াম! তোমার পালনকর্তার উপাসনা কর এবং রুকুকারীদের সাথে সেজদা ও রুকু কর। (আলে ইমরানঃ ৪২-৪৩)

মারইয়াম (আঃ) থেকে ঈসা (আঃ) এর জন্ম

অতঃপর আল্লাহ তায়া’লা যখন ঈসা (আঃ) কে এ ধরায় ভুমিষ্ট করাতে চাইলেন, তখন মারইয়াম (আঃ) পরিবার পরিজন থেকে দূরে গেলেন। এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন, যখন সে তার পরিবারের লোকজন থেকে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল। অতঃপর তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করার জন্যে সে পর্দা করলো। অতঃপর আমি তার কাছে আমার রূহ প্রেরণ করলাম, সে তার নিকট পুর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল। (মারইয়ামঃ ১৬-১৭)

জিব্রাইল (আঃ) কে দেখে মারইয়াম (আঃ) ভীত হলেন, তিনি ভেবেছিলেন, জিব্রাইল (আঃ) তার সাথে খারাপ কিছু করতে চাইছেনঃ মারইয়াম বললঃ আমি তোমা থেকে দয়াময়ের আশ্রয় প্রার্থনা করি যদি তুমি আল্লাহভীরু হও। সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব। (মারইয়ামঃ ১৮-১৯)

চিরকুমারী মারইয়াম (আঃ) এতে আশ্চর্যান্বিত হন। মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না? (মারইয়ামঃ ২০)

তখন আল্লাহর দূত জিব্রাইল (আঃ) তাকে সুসংবাদ দিয়ে বললেন, ইহা আল্লাহ তায়া’লার ইচ্ছা, তিনি একে তার একটি নিদর্শন করবেন, যদিও ইহা আল্লাহর জন্য সামান্য একটি ব্যাপার মাত্র। সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার। (মারইয়ামঃ ২১)

অতঃপর ঈসার (আঃ) জন্মের মাধ্যমে আল্লাহ তায়া’লার ইচ্ছা নিদর্শনরুপে বাস্তবায়ন হলো এভাবে যে, তিনিপিতা ছাড়া একজন পবিত্র জননী থেকে ভুমিষ্ট হয়েছেন, যিনি যিনায় লিপ্ত হননি, অথবা কোন অন্যায় কাজও করেননি,– ইহা বান্দাহর জন্য আল্লাহর এক রহমত, তিনি যা ফয়সালা করেন তার বাস্তবায়ন- সুতরাং ঈসা (আঃ) এর জন্ম একটি মু’জিযা, আল্লাহর সৃষ্টির এক মহান নিদর্শন, যেমনিভাবে তিনি আদম (আঃ) কে পিতা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আদমেরই মতো। তাকে মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন এবং তারপর তাকে বলেছিলেন হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেলেন। যা তোমার পালকর্তা বলেন তাই হচ্ছে যথার্থ সত্য। কাজেই তোমরা সংশয়বাদী হয়ো না। (আলে ইমরানঃ ৫৯-৬০)

www.aroadtohappiness.com

ফ্রেডেরিক ডোলামার্ক,

জোহানেসবার্গ এর বিশপদের মাঝে ঊর্ধ্বতন যাজক
ইসলামে যীশু
যখন আমি ইসলাম নিয়ে পড়লাম তখন ইসা আঃ এর সম্পুর্ণ এক ভিন্ন চিত্র দেখতে পেলাম, যা আমার মাঝে গভীর প্রভাব ফেলে।

তিনি গর্ভবতী হলে সম্প্রদায়ের লোকদের থেকে দূরে চলে গেলেনঃ অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন। (মারইয়ামঃ ২২)

প্রসব বেদনা শুরু হলোঃ প্রসব বেদনা তাঁকে এক খেজুর বৃক্ষ-মূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তিনি বললেনঃ হায়, আমি যদি কোনরূপে এর পূর্বে মরে যেতাম এবং মানুষের স্মৃতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতাম! (মারইয়ামঃ ২৩)

তখন ঈসা (আঃ) এর আরেকটি মু’জিযা সংঘটিত হয়ঃ অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিম্নদিক থেকে আওয়ায দিলেন যে, তুমি দুঃখ করো না। তোমার পালনকর্তা তোমার পায়ের তলায় একটি নহর জারি করেছেন। আর তুমি নিজের দিকে খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা থেকে তোমার উপর সুপক্ক খেজুর পতিত হবে। যখন আহার কর, পান কর এবং চক্ষু শীতল কর। যদি মানুষের মধ্যে কাউকে তুমি দেখ, তবে বলে দিওঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোযা মানত করছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সাথে কথা বলব না। (মারইয়ামঃ ২৪-২৬)

এরপর যখন সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে এলেন তখন পুতঃপবিত্র স্বতীসাধ্বী মারইয়ামের জন্য এ সাক্ষাৎ ছিল খুবই কঠিনতম ব্যাপার।অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ। হে হারূণ-ভাগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী। (মারইয়ামঃ ২৭-২৮)

তিনি কোন উত্তর দেননি, বরং তিনি ইশারা করলেনঃ অতঃপর তিনি হাতে সন্তানের দিকে ইঙ্গিত করলেন। (মারইয়ামঃ ২৯)

তারা ইহা অস্বীকার করল, সকলে বলতে লাগলঃ তারা বললঃ যে কোলের শিশু তার সাথে আমরা কেমন করে কথা বলব? (মারইয়ামঃ ২৯) সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। আমি যেখানেই থাকি, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি, ততদিন নামায ও যাকাত আদায় করতে। এবং জননীর অনুগত থাকতে এবং আমাকে তিনি উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব। (মারইয়ামঃ ৩০-৩১)

কিন্তু কতিপয় ইহুদিরা একথা বিশ্বাস করলনা, তারা পুতঃপবিত্র মারইয়ামের উপর অপবাদ দিলঃ আর তাদের কুফরী এবং মরিয়মের প্রতি মহা অপবাদ আরোপ করার কারণে। (নিসাঃ ১৫৬)

তারা পবিত্র মারইয়ামকে যিনার অপবাদ দিল। তখন আল্লাহ তায়া’লা তার পবিত্রতা ঘোষণা করেন, আল্লাহ তায়া’লা তার সম্পর্কে বললেনঃ আর তার জননী একজন ওলী। (মায়েদাঃ ৭৫)

আসমান থেকে মায়েদা

বাইবেল ক্রুশকে অস্বীকার করে এবং আকাশে উঠিয়ে নেয়াকে সাব্যস্ত করে
“তারা পাথর নিল তাকে নিক্ষেপ করতে। তবে যীশু তাদের ভিতর দিয়েই উপাসনালয় থেকে বেরিয়ে আত্ম গোপন করে এদিক চলে গেলেন।” (ইউহেন্না ৮/৫৯) “এর পরও তারে তাকে খুঁজল ধরার জন্য তখনও তিনি বেরিয়ে গেলেন।”(ইউহেন্না১০/১৯) এটা ঘটল যাতে বাইবেলের এ কথা বাস্তবায়িত হয় যেঃ “তার কোন হাড় ভাংবেনা।” (ইউহেন্না ৩৬/১৯) “যীশু ইনি যে তোমাদের থেকে আকাশে উত্তলিত হয়েছেন।”(দূত গনের ঘটনা গ্রন্থ ১/১১)

তিনি ঈসা (আঃ) এর নবুয়্যাত ও রেসালাতের উপর বিশ্বাসী ও উহার সত্যায়ণকারী। আল্লাহ তায়া’লা তার বান্দা ও রাসুল ঈসা (আঃ) ও তার জননীকে মহিমান্বিত ও নেয়ামত দান করেছেন। যখন আল্লাহ বলবেনঃ হে ঈসা ইবনে মরিয়ম, তোমার প্রতি ও তোমার মাতার প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর, যখন আমি তোমাকে পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্য করেছি। তুমি মানুষের সাথে কথা বলতে কোলে থাকতেও এবং পরিণত বয়সেও এবং যখন আমি তোমাকে গ্রন্থ, প্রগাঢ় জ্ঞান, তওরাত ও ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছি। (মায়েদাঃ ১১০)

তিনি তাকে মু’জিযা ও নিদর্শন দিয়ে সাহায্য ও শক্তিশালী করেছেনঃ এবং যখন তুমি কাদামাটি দিয়ে পাখীর প্রতিকৃতির মত প্রতিকৃতি নির্মাণ করতে আমার আদেশে, অতঃপর তুমি তাতে ফুঁ দিতে; ফলে তা আমার আদেশে পাখী হয়ে যেত এবং তুমি আমার আদেশে জন্মান্ধ ও কুষ্টরোগীকে নিরাময় করে দিতে এবং যখন আমি বনী-ইসরাঈলকে তোমা থেকে নিবৃত্ত রেখেছিলাম, যখন তুমি তাদের কাছে প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলে, অতঃপর তাদের মধ্যে যারা কাফের ছিল, তারা বললঃ এটা প্রকাশ্য জাদু ছাড়া কিছুই নয়। আর যখন আমি হাওয়ারীদের মনে জাগ্রত করলাম যে, আমার প্রতি এবং আমার রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তখন তারা বলতে লাগল, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা অনুগত্যশীল। (মায়েদাঃ ১১১)

হাওয়ারীরা ঈসা (আঃ) কে আসমান থেকে খাদ্য নাযিল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বললেনঃ আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ যখন হাওয়ারীরা বললঃ হে মরিয়ম তনয় ঈসা, আপনার পালনকর্তা কি এরূপ করতে পারেন যে, আমাদের জন্যে আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করে দেবেন? (মায়েদাঃ ১১২)

অতঃপর তিনি তাদের ব্যাপারে অকৃতজ্ঞতার আশংকা করলেনঃ তিনি বললেনঃ যদি তোমরা ঈমানদার হও, তবে আল্লাহকে ভয় কর। তারা বললঃ আমরা তা থেকে খেতে চাই; আমাদের অন্তর পরিতৃপ্ত হবে; আমরা জেনে নেব যে, আপনি সত্য বলেছেন এবং আমরা সাক্ষ্যদাতা হয়ে যাব। (মায়েদাঃ ১১২-১১৩)

তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলেনঃ ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেনঃ হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা। আল্লাহ বললেনঃ নিশ্চয় আমি সে খাঞ্চা তোমাদের প্রতি অবতরণ করব। অতঃপর যে ব্যাক্তি এর পরেও অকৃতজ্ঞ হবে, আমি তাকে এমন শাস্তি দেব, যে শাস্তি বিশ্বজগতের অপর কাউকে দেব না। (মায়েদাঃ ১১৪-১১৫)

যখন মায়েদা নাযিল হলো তখন তাদের কতিপয় লোক কুফুরী করলঃ

ইহুদীদের ষড়যন্ত্র ও ঈসা (আঃ) কে শূলে চড়ানোর চেষ্টা

আর বনী ইসরাইলের ইহুদীরা আল্লাহর নবী ঈসা (আঃ) কে অস্বীকার করল, তারা তাদের কুফুরী ও মিথ্যাচারেই ছিল, এমনকি তারা ঈসা (আঃ) এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে লাগলঃ এবং কাফেরেরা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী। (আলে ইমরানঃ ৫৪)

আল্লাহ তায়া’লা তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে দিলেন, আরো জানালেন যে, কিভাবে তিনি তাকে রক্ষা করবেন। আর স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বলবেন, হে ঈসা! আমি তোমাকে নিয়ে নেবো এবং তোমাকে নিজের দিকে তুলে নিবো-কাফেরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করে দেবো। আর যারা তোমার অনুগত রয়েছে তাদেরকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে তাদের উপর জয়ী করে রাখবো। বস্তুতঃ তোমাদের সবাইকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। তখন যে বিষয়ে তোমরা বিবাদ করতে, আমি তোমাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দেবো। (আলে ইমরানঃ ৫৫)

এভাবে যখন তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ, ষড়যন্ত্র, কুফুরী, আল্লাহর নবীদেরকে হত্যার চেষ্টা ও পুতঃপবিত্র মারইয়াম (আঃ) কে অপবাদ দেয়া চলতে থাকল, তখন আল্লাহ তায়া’লা বললেনঃ অতএব, তারা যে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিল, তা ছিল তাদেরই অঙ্গীকার ভঙ্গর জন্য এবং অন্যায়ভাবে রসূলগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই উক্তির দরুন যে, আমাদের হৃদয় আচ্ছন্ন। অবশ্য তা নয়, বরং কুফরীর কারণে স্বয়ং আল্লাহ তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন। ফলে এরা ঈমান আনে না কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক। আর তাদের কুফরী এবং মরিয়মের প্রতি মহা অপবাদ আরোপ করার কারণে। আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল। (নিসাঃ ১৫৫-১৫৭)

কিন্তু আল্লাহ তায়া’লা তাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করলেনঃ অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে। (নিসাঃ ১৫৭)

বরং তারা তার অনুরূপ চেহারার একজনকে হত্যা করেছেঃ বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল। বস্তুতঃ তারা এ ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোন খবরই রাখে না। আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি। বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা নিজের কাছে। আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (নিসাঃ ১৫৭-১৫৮)

আল্লাহ তায়া’লা তার বান্দা ও রাসুল ঈসা (আঃ) কে রক্ষা করে আসমানে তুলে নেনঃ আর আহলে-কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈসার উপর তাদের মৃত্যুর পূর্বে। আর কেয়ামতের দিন তাদের জন্য সাক্ষীর উপর সাক্ষী উপস্থিত হবে। (নিসাঃ ১৫৯)

আর ইহাই হলো ঈসা ইবনে মারইয়ামের (আঃ) প্রকৃত ঘটনা। এই মারইয়ামের পুত্র ঈসা। সত্যকথা, যে সম্পর্কে লোকেরা বিতর্ক করে। আল্লাহ এমন নন যে, সন্তান গ্রহণ করবেন, তিনি পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা, তিনি যখন কোন কাজ করা সিদ্ধান্ত করেন, তখন একথাই বলেনঃ হও এবং তা হয়ে যায়। (মারইয়ামঃ ৩৪-৩৫)

আল্লাহ তায়া’লা স্পষ্টভাবে বলেছেন তার কোন সন্তান নেই, কেননা তিনি সব কিছুর স্রষ্টা ও মালিক। সব কিছুই তার মুখাপেক্ষী, অবনত ও অনুগত। আসমান জমিনে যা কিছু আছে সবই তার ইবাদত করে, তিনি সব কিছুর পালনকর্তা, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, কোন প্রতিপালক নেই।